গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা Gorom pani khawar Upokarita

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা স্বাস্থ বিষয়ক গবেষক দের মতামত কি?পানি বেশি বা কম খাওয়ার উপকারিতা কি

এবং পাশা পাশি দেখবো ইসলামে পানিখাওয়ার নিয়ম বা পানি খাওয়ার সুন্নাত কি, দৈনিক পানি পান করার নিয়ম,বা একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক কত লিটার পানি পান করা উচিত,

শীতকালে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত,দৈনিক কত গ্লাস পানি পান করা উচিত ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ, আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে এবং উপকৃত হবেন।

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

শরীরের জন্য গরম পানি পান করার যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি কিছু অপকারিতা রয়েছে আজকে আমরা গরম পানি পান করার উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা:

গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা সমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো,যে সকল শারীরিক সমস্যার কারণে গরম পানি খাওয়ার ফলে উপকারিতা পেতে পারেন সেসব হলো

  • মাইগ্রেন,
  • উচ্চ রক্তচাপ,
  • নিম্ন রক্তচাপ,
  • হাঁটু, গোড়ালিতে ব্যথা,
  • বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা,
  • হুটহাট হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি-হ্রাস,
  • মৃগী রোগ,
  • কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ,
  • কাশি,
  • পেটের সমস্যা ইত্যাদি

তাছাড়া গরম পানি খাওয়ার বিশেষ কিছু উপকারিতা নিম্নে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো

1.শরীরে মেদ জমে গেলে সবার কাছেই অস্বস্তি বোধ উপলব্ধি হয়, তাই প্রতিদিন সকালে কুসম গরম পানির সাথে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেতে পারলে মেদ অনেক টায় কমে যাবে ইনশাআল্লাহ

2.গরম পানি খাওয়ার পর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় তার ফলে শরীর থেকে ঘাম ঝরতে থাকে ঘামের সাথে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায় এবং শরীরে তারুণ্যময় ফিরে আসে

3.কিছু কিছু মানুষের সময় অসময়ে ঠান্ডা সর্দি লেগে থাকে আর তাদের জন্য গরম পানি খাওয়া অনেক উপকারিতা তাদের নিয়মে অনিয়মে এদিকে এই ঠান্ডা সর্দি কে কন্ট্রোল করার জন্য গরম পানি অপরিহার্য

4.মহিলাদের পিরিয়ডের সময়ে মেনস্ট্রয়াল ক্র্যাম্পের প্রকোপ কমাতে গরম পানির কোনো বিকল্প নেই,

এ সময় পানি পান করার ফলে অ্যাবডোমিনাল মাসলের এর কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় ফলে ব্যাথা খুব কম সময়ের মধ্যে ভালো হয়ে যায়

5.যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে তাদের তাদের জন্য নিয়মিত হালকা কুসুম গরম পানি খাওয়া অপরিহার্য
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খাওয়ার পূর্বে অর্থাৎ খালি পেটে গরম পানি পান করলে ব্রণের সমস্যা থেকে

মুক্তি পাওয়া যেতে পারে
তাছাড়া গরম পানি স্কিন এর জন্য খুবই উপকারী এবং সেইসাথে ত্বকের লাবণ্যময় ফিরে আসে

6.অনেক লোকের দেখা যায় মাথায় খুশকির কারণে চুল পড়ে যায় এই মাথার খুশকি দূর করতে এবং চুল পড়া বন্ধ করতে হালকা কুসুম গরম পানি বেশ কাজে লাগে

মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায় ঘরে বসে ডায়েট ছাড়াই

গরম পানি খাওয়া শুরু করলে চুলের কর্মদক্ষতা বেড়ে যায় অর্থাৎ চুলের গোড়ালিতে যে ক্যালসিয়াম থাকে সেটা মজবুত হয় এতে চুলের সৌন্দর্য বেড়ে যায় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়

7.কিছু কিছু মানুষ যারা মানসিক অস্বস্তি বোধ করছেন যাদের হজম শক্তি কম হজমে সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য গরম পানি একটি বিনামূল্যে মূল্যবান ঔষধ হিসেবে কাজ করবে

যেটা আপনি সরাসরি প্রমাণ পাবেন আমি মনে করি এমন লোকের জন্য গরম পানি খাওয়া খুবই জরুরী

8.যাদের হাত পায়ের গোড়ালিতে না গায়ে হালকা ব্যথা অনুভব হয় তারা গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন অবশ্যই উপকার পাবেন

এবং যাদের ত্বকে সামান্য সমস্যা রয়েছে তারা হালকা গরম পানিতে নিম পাতা ভিজিয়ে কিছুক্ষণ রেখে তারপর

সে পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের সমস্যা অনেকটা সমাধান হবে

9.যাদের নিয়মিত পায়খানা সমস্যা রয়েছে অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের জন্য গরম পানি একটি মূল্যবান ঔষধ হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে মাথার স্টক কমিয়ে দেয়

এবং মানুষ সারাদিন কাজ করার ফলে যে ক্লান্তি অনুভব করে সামান্য হালকা গরম পানি সে ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে

10.যাদের মুখে দুর্গন্ধ হয় এবং দাতে ব্যথার সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিন তিন থেকে চার বার গরম পানি দিয়ে কুলি করলে এই ব্যথা থেকে পরিত্রান পেতে পারেন

এবং মুখের ব্যাকটেরিয়া মারা যায় তাই মুখে দুর্গন্ধ তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন

গরম পানি খাওয়ার অপকারিতা

অতিরিক্ত জিনিসটি সব ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর হালকা গরম পানি খাওয়া উপকার হবে সব সময় গরম পানি খাওয়া শরীরের জন্য উপকার নয় অপকারিতা রয়েছে

বেশি গরম পানি পান করলে শরীরে এক প্রকারের চাপ অনুভব হবে এবং কিডনির সমস্যা হতে পারে

এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে তাই আমরা গরম পানি সঠিক নিয়মে পান করার চেষ্টা করব এবং অত্যাধিক গরম পানি কখনোই পান করবো না

এবং গরম পানি দিয়ে সব সময় গোসল করলে শরীরের সমসসা হতে পারে।

ইসলামে পানি খাওয়ার নিয়ম

ইসলামে পানি পান করার কিছু সুন্নত নিয়ম রয়েছে সেভাবে পানি পান করলে যেরকম উপকার হবে তেমনি ভাবে আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সাওয়াব লাভ করবেন ,

সকল প্রাণী পানি পান করে তবে মানুষ জাতি পানি পান করতে হবে সুন্নত তরিকায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যেভাবে পানি পান করেছেন

এবং যখন পানি পান করেছেন সেভাবে পানি পান করলে আমাদের জন্য উপকার হবে এবং সাওয়াব অর্জন হবে

ইসলামে পানি পান করার নিয়ম ও সুন্নত তরিকা

ইসলামে পানি পান করার অনেকগুলো নিয়ম কানুন রয়েছে তন্মধ্যে আমরা আজকে পানি পান করার মৌলিক কিছু নিয়ম নিয়ে আলোচনা করো

  • ডান হাতে পানি পান করা
  • বসে পানি পান করা
  • বিসমিল্লাহ পড়ে পানি পান করা
  • পানি পান করার পূর্বে পানি দেখে নেওয়া
  • কমপক্ষে তিন শ্বাসে পানি পান করা
  • গ্লাসে অর্থাৎ পাত্রে নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা
  • পাত্রের ভাঙ্গা দিক দিয়ে পানি পান না করা
  • পানি খাওয়ার পরে আলহামদুলিল্লাহ পড়া
  • খাবারের পূর্বে হালকা পানি খেয়ে নেওয়া,
  • খাবার খাওয়ার মিনিমাম ৩০ মিনিট পরে পানি পান করা

উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়াও ইসলামে আরো অনেকগুলো পানি পান করার নিয়ম রয়েছে

করোনাভাইরাস: চা, কফি বা গরম পানি খেয়ে কি ভাইরাস দূর করা যায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *